ইসলামিক

ইসলামিক

সাহিত্য

সাহিত্য

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

কর্পোরেট

কর্পোরেট

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

বইপত্র

বইপত্র

সম্পাদকের পছন্দ

এই সপ্তাহের সেরা

সর্বশেষ লেখা

8
মঙ্গল গ্রহে প্রথম সেজদা

মঙ্গল গ্রহে প্রথম সেজদা

মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রিয়সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬মন্তব্য করুন

 

মঙ্গল গ্রহে প্রথম সেজদা

এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন

২০৫০ সাল। পৃথিবী থেকে কয়েক কোটি মাইল দূরে মহাকাশযান 'আল-রফরফ-২' ধীরে ধীরে লাল গ্রহ মঙ্গলের মাটি স্পর্শ করল। যানের ভেতরে থাকা চারজন নভোচারীর মধ্যে কনিষ্ঠতম সদস্য হলো ১২ বছর বয়সী হুসাইন তাইয়ার। সে তার বাবার সাথে এই ঐতিহাসিক মিশনে এসেছে। হুসাইন তাইয়ারের বাবা ড. জামান হুসাইনী একজন প্রখ্যাত অ্যাস্ট্রো-ফিজিসিস্ট।

হুসাইন তাইয়ার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল। বাইরের আকাশটা পৃথিবীর মতো নীল নয়, বরং হালকা গোলাপি আর কমলা রঙের মিশ্রণ। মঙ্গলের ধুলোবালির ঝড় শান্ত হওয়ার পর ড. জামান হুসাইনী বললেন, "হুসাইন তাইয়ার, আজ আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় দিন। আজ আমরা এই নতুন গ্রহে আমাদের প্রথম ইবাদত সম্পন্ন করব।"

বিজ্ঞানের চ্যালেঞ্জ ও প্রযুক্তির জাদু

মঙ্গলে টিকে থাকা মোটেও সহজ নয়। এখানকার বায়ুমণ্ডল খুব পাতলা এবং এতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুবই কম। কিন্তু ২০৫০ সালের উন্নত ন্যানো-টেকনোলজি এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। হুসাইন তাইয়াররা যে বিশেষ 'স্মার্ট-স্যুট' পরে আছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরি করতে পারে।

হুসাইন তাইয়ার তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এখানে তো পৃথিবীর মতো উত্তর-দক্ষিণ দিক নেই। আমরা কিবলা ঠিক করব কীভাবে?"

ড. জামান হুসাইনী তার হাতের হলোগ্রাফিক এআই ডিভাইসটি চালু করলেন। তিনি হাসিমুখে বললেন, "হুসাইন তাইয়ার, বিজ্ঞানের এই যুগে কিছুই অসম্ভব নয়। আমাদের এই এআই ডিভাইসটি রিয়েল-টাইম স্পেস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর অবস্থান নির্ণয় করছে। মঙ্গল থেকে পৃথিবী এখন একটি উজ্জ্বল বিন্দুর মতো দেখায়। আমাদের কিবলা হবে সেই বিন্দুর দিকে।"

মহাবিশ্বের বিশালতা ও আল্লাহর নিপুণতা

সালাতের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হুসাইন তাইয়ার অবাক হয়ে মঙ্গলের পাহাড়গুলোর দিকে তাকাচ্ছিল। পৃথিবীর চেয়ে মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেক কম। ফলে এখানে হাঁটলে মনে হয় শরীরটা তুলোর মতো হালকা।

ড. জামান হুসাইনী হুসাইন তাইয়ারকে কাছে টেনে বললেন, "হুসাইন তাইয়ার, দেখ এই বিশাল মহাবিশ্ব। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ

"নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।" (সূরা আল-ইমরানঃ ১৯০)

আজ আমরা মঙ্গলে দাঁড়িয়ে সেই নিদর্শনের সাক্ষী হচ্ছি। আল্লাহ শুধু পৃথিবীর রব নন, তিনি এই পুরো মহাবিশ্বের অধিপতি।"

মঙ্গলের বুকে প্রথম জামাত

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো। 'আল-রফরফ-২' যানের বিশেষ এয়ারলক রুমে হুসাইন তাইয়ার, ড. জামান হুসাইনী এবং অন্য দুই নভোচারী সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে মঙ্গলের লাল দিগন্ত দেখা যাচ্ছে। ড. জামান হুসাইনী আযান দিলেন। শূন্য মহাকর্ষের কারণে তাদের গলার আওয়াজ যেন এক অপার্থিব প্রশান্তি নিয়ে এলো।

হুসাইন তাইয়ার যখন সেজদায় গেল, সে অনুভব করল এক অন্যরকম শিহরণ। পৃথিবীর মাটি থেকে দূরে অন্য এক গ্রহে সে তার কপাল ঠেকাল। যদিও মঙ্গলের মাটি রুক্ষ এবং জনমানবহীন, কিন্তু আল্লাহর নূর যেন সেখানেও ছড়িয়ে আছে। সালাত শেষে হুসাইন তাইয়ার অনুভব করল, দূরত্ব যাই হোক না কেন, আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক সবসময় হৃদয়ের মাধ্যমে থাকে।

এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত

সালাত শেষ হতেই হঠাৎ যানের এলার্ম বেজে উঠল। একটি ছোট উল্কাপিণ্ড যানের খুব কাছ দিয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হুসাইন তাইয়ার ভয় পেল না। সে দ্রুত তার প্যানেলে গিয়ে এআই সিস্টেম চেক করল। ন্যানো-শিল্ড প্রযুক্তি মুহূর্তের মধ্যে মহাকাশযানকে সুরক্ষিত করে ফেলল।

ড. জামান হুসাইনী বললেন, "ভয় পেয়ো না হুসাইন তাইয়ার। আল্লাহ আমাদের মেধা দিয়েছেন এই প্রযুক্তি তৈরি করার জন্য। তিনিই আমাদের রক্ষাকারী।"

শুকরিয়া হে রব

মিশনের প্রথম দিন শেষে হুসাইন তাইয়ার তার ডায়েরিতে লিখল, "আজ ২০৫০ সালের ২১শে জুলাই। আমি মঙ্গলে প্রথম সালাত পড়লাম। মহাকাশের এই বিশালতায় নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল, কিন্তু আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আমাকে অনেক শক্তিশালী করে তুলেছে।"

বন্ধুরা, বিজ্ঞান আমাদের অনেক দূরে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আমাদের সৃষ্টিকর্তার কথা ভুলে গেলে চলবে না। আমরা যেখানেই যাই না কেন, আল্লাহর সৃষ্টি আর তাঁর করুণা আমাদের ছায়ার মতো ঘিরে রাখে। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সর্বদা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত এবং তাঁর নিপুণ সৃষ্টির জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আলহামদুলিল্লাহ!

শেয়ার করুন: f W t ➤ in
এই লেখার মেধাস্বত্ব লেখক ও এই সাইটের। লিখিত অনুমতি ছাড়া লেখার অংশবিশেষ বা সম্পূর্ণ অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না।

মন্তব্যসমূহ