মরীচিকার কারুকাজে এক নশ্বর জ্যামিতি,
যেখানে মুখচ্ছবি ঢাকা পড়ে যায় শ্বেত-পাথরের রেণুর নিচে—
এক অলীক নক্ষত্রপুঞ্জ, যার নাম দিয়েছ তুমি 'সৌন্দর্য'।
অথচ সেই সজ্জার গভীরে গুমরে মরে এক 'শূন্যতার সঙ্গীত'।
ললাটের সেই রক্তিম বিন্দু যেন এক দগ্ধ সূর্য,
যা দিগন্তের শুদ্ধতাকে অস্বীকার করে এক কৃত্রিম কামনায়।
বোরখার সেই সংক্ষিপ্ত ছায়া আসলে রুহের এক সংকুচিত তসবিহ,
যা আবৃত করতে গিয়েও উন্মোচিত করে দেয় এক 'দহনকাল'।
রক্তের উত্তরাধিকার বয়ে চলে এক অস্থির নদীর মতো,
যেখানে ললিতা-লতা তার বাঁধন ছিঁড়েছে অনেক আগেই।
আঁটসাঁট আবরণে প্রাণের স্পন্দন আজ বন্দি—
এক অবরুদ্ধ জ্যামিতি, যা বক্ষের কম্পনকে করে তোলে পণ্য।
লাইব্রেরির সেই নিভৃত কোণ এখন এক 'মায়াবী দর্পণ',
যেখানে আঙুলের ডগায় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নাচলেও,
হৃদয় তার হারিয়েছে সেই 'সিরাতুল মুস্তাকিম'-এর ধ্রুবতারা।
সে এক ডিজিটাল উপাখ্যান, যেখানে আত্মা কেবলই এক 'ডেটা-ছায়া'।
আর সেই রাজপুত্র, যার ওষ্ঠে আঁকা থাকে বিজাতীয় কারুকাজ,
সে এক শত ছিন্ন সম্পর্কের জাদুকর।
বেহেশতের চাবি নয়, তার পকেটে আজ অসংখ্য 'ভার্চুয়াল গেটওয়ে'।
ফ্রেন্ডলিস্টের সেই অগণিত নাম যেন এক একটি 'অস্তিত্বহীন নক্ষত্র',
যারা আলো দেয় না, শুধু জ্বালিয়ে মারে এক 'অসুস্থ দহন'।
এই যে এক অদ্ভুত উন্মাদনা, এক নশ্বর উপযোগিতার লড়াই—
এ তো জীবনের গান নয়, এ যেন এক 'মৃত আত্মার কোরাস'।
এটি কি আধুনিকতা? নাকি এক মহাজাগতিক অন্ধত্বের মহড়া?
এখনো কি সময় হয়নি সেই দর্পণ ভাঙার?
যেখানে মিথ্যে প্রতিবিম্বেরা রোজ এক উৎসব সাজায়।
ফেলে দাও সেই শ্বেত-পাথরের রেণু, মুছে ফেলো ললাটের দগ্ধ সূর্য;
শোনো, দূর থেকে ভেসে আসছে এক 'অনন্ত আহ্বান'—
যা মাটির দেহ ছাপিয়ে রুহকে ডাকছে তার শাশ্বত ঠিকানায়।
এসো, আমরা ধুয়ে ফেলি এই কৃত্রিম প্রতিযোগিতার ধুলোবালি;
নাওয়া-খাওয়ার তৃষ্ণা নয়, আজ জাগুক এক 'রূহানি ক্ষুধা'।
সেই সংক্ষিপ্ত ছায়ার আড়ালে যে বিশাল মহাকাশ ছিল,
তাকে খুঁজে নাও একাকীত্বের গভীর তসবিহতে।
অসুস্থ এই মেলার ভিড় ঠেলে ফিরে চলো সেই নির্জনে,
যেখানে আল্লাহ্ স্বয়ং প্রতীক্ষায় আছেন—
এক ফোঁটা চোখের জলের বিনিময়ে পুরো আকাশটা লিখে দিতে।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।