যেন
কোনো নূরের কম্পন,
বিস্মৃতির সমুদ্রে।
রইনা
মাছের আলস্যে লেগে আছে অনন্ত দুপুরের ক্কান্তি—
যেখানে
সময় তার নিজের লেজ কামড়ে পড়ে থাকে তন্দ্রায়।
চেলা
মাছের রূপালি তলোয়ারে বিদীর্ণ হয় সাগর-দর্পন,
সে
কি তবে কোনো রোজ-হাশরের পদধ্বনি?
তেচোঁখোর
অবাক দৃষ্টি যেন মারেফাতের নিঃশব্দ ইশারা—
যা
দেখেও দেখে না, অথচ সবটুকুই যার আয়ত্তে।
খোরশোল্লার
পাখায় ঝিঁঝির লালসা,
প্রকৃতপক্ষে ঊর্ধ্বগামী দহনের নামান্তর;
মাটিতে
গুগলি খুঁজতে ডুব দেয় যে রাজহাঁস—
সে আসলে নিজেরই রূহের গভীরতা মেপে ফেরে।
খোলসে
মাছের দাপট কিংবা শোল মাছের নির্লিপ্তি,
সবই
তো এই ক্ষণস্থায়ী সরাইখানার
মায়া-মরীচিকা।
চিতল
মাছের বক্ষ চিরে যে খাবল ওঠে—
তা
কি তবে কোনো অবাধ্য প্রেমের
রক্তাক্ত জিকির?
পানকৌড়ির
ডানায় যখন সোনালি রোদ ঝরে,
তখন
ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত তসবিহ বেজে ওঠে নিঃশব্দে।
আবির
মাখা আকাশ যেন সেই বধূ—
যে
তার মউতের বাসর সাজিয়ে বসে আছে দিগন্তের ওপারে।
জোনাকির
পিদিম আসলে এক একটি খসে পড়া নক্ষত্র,
বাঁশঝাড়ে
শালিকের কলতান—যেন কিতাবের তিলাওয়াত।
শিয়ালের
হুক্কাহুয়া আর ডাহুকের আর্তনাদে—
জেগে
ওঠে এক আদিম দোটানা, মহাজাগতিক কম্পন।
বেতনা
এখন বৃদ্ধা, তার স্রোতে এখন
মৃত্যুর ঘ্রাণ;
স্মৃতিগুলো
যেন শুকিয়ে যাওয়া কোনো কাফনের ভাঁজ।
আমরা
সবাই সেই কলার ভেলায় চড়ে ভাসা বালক—
যাদের
গন্তব্য কেবলই কোনো এক অদৃশ্য কূলের ইশারা।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।