তাকদির বড় অদ্ভুত এক মানচিত্র। এর রেখাগুলো মানুষের হাতে আঁকা নয়। এর পথগুলো আমাদের চেনা পৃথিবীর আটপৌরে রাস্তার মতো নয়। আসমানের কোনো এক নিভৃত, নূরাণী প্রকোষ্ঠে যখন একটি ফায়সালা লেখা হয়, জমিনের বুকে তখন এক আশ্চর্য জাদুকরী পথে তার বাস্তবায়ন শুরু হয়। আমরা, সাধারণ মানুষ, কেবল বোবার মতো দাঁড়িয়ে সেই ঐশী নাটকের দৃশ্যপট বদল হতে দেখি। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) যেমনটা বলতেন, দৃশ্যমান এই জগৎ কেবল একটি আয়না মাত্র, আসল সত্য লুকিয়ে আছে অদৃশ্যের পর্দায়। আমাদের কলব তখনো বুঝতে পারে না, নফসের তাড়নায় আমরা প্রতিদিন যা করছি, তা আসলে এক বিশাল, নিখুঁত পরিকল্পনার সামান্যতম অংশমাত্র।
গত কয়েকদিন আগের কথা। শীতের এক
সাধারণ সকাল। বাতাসের গায়ে তখনো হিমেল চাদর জড়ানো। শহরের ধুলোমাখা রাস্তায় তখন পিচ
ঢালাইয়ের কাজ চলছে। শ্রমে আর ঘামে একাকার হওয়া কিছু মানুষ। দুনিয়ার চাকায় পিষ্ট
হওয়া কিছু রুহ, এক টুকরো রুটির
সন্ধানে মাটি খুঁড়ছে। কংক্রিটের এই যান্ত্রিক শহরে মানুষের জীবন যেন এক অন্তহীন
দৌড়। আমার এক সহকর্মী হঠাৎ আমার সামনে এসে দাঁড়াল। তার চোখে এক অদ্ভুত অস্থিরতা, অথচ আচরণে এক নিবিড় প্রশান্তি। সে আমার
বাইকের চাবিটা চাইল। বলল, "ভাই, ইন হাউজ কর্মীগুলো কাজ করছে। রাস্তার
ঢালাইয়ের কাজ। ওদের জন্য একটু নাস্তা নিয়ে আসি।"
আমি চাবিটা এগিয়ে দিলাম। কাজটা
খুব সাধারণ। কিন্তু মারেফাতের দৃষ্টিতে দেখলে, এই
সাধারণ কাজের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক অসাধারণ ঐশী ইশারা। সে গেল। নাস্তা নিয়ে ফিরেও
এলো। চাবিটা আমার টেবিলের ওপর রাখার সময় খুব সাধারণ ভঙ্গিতে, নিরাসক্ত গলায় বলল, "ভাই, আপনার
ব্যাগের ভেতর একটা ড্রাই কেক রেখে আসছি। আপনি খাইয়েন।"
আমি কেবল মাথা নাড়লাম। কাজের
পাহাড় তখন আমার সামনে। ফাইলের পর ফাইল। মস্তিষ্কের ভেতরে দুনিয়ার হাজারো
হিসাব-নিকাশ। নফসের তাগিদ, দুনিয়া
গোছানোর এক অন্তহীন তাড়না আমাকে ঘিরে রেখেছে। এই কোলাহলের ভেতর, এই পার্থিব ব্যস্ততার মাঝে একটা সামান্য
ড্রাই কেকের কথা আমার স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুছে গেল। বেমালুম ভুলে গেলাম আমি।
ভুলে যাওয়াটা কি কেবলই মানুষের
স্নায়ুবিক দুর্বলতা? নাকি এর
পেছনেও লুকিয়ে থাকে কোনো এক সুগভীর ইশারা? আল্লাহ
যখন কোনো বান্দার রিজিক অন্য কোথাও, অন্য
কারও নামে লিখে রাখেন, তখন
তিনি অস্থায়ী মালিকের অন্তর থেকে সেই বস্তুর কথা ভুলিয়ে দেন। আমার নফস তখনো জানত
না, এই ড্রাই কেকটির গন্তব্য আমার পাকস্থলী
নয়। এটি কেবল এক মুসাফির। আমার চামড়ার জীর্ণ ব্যাগটি তার জন্য নির্ধারিত একটি
সাময়িক সরাইখানা মাত্র।
দুই-তিন দিন কেটে গেল। ব্যাগটা
আমার সাথেই রইল। ব্যাগের অন্ধকার গহিনে চুপচাপ শুয়ে রইল সেই কেকটি। যেন সে তার
মারেফাতের গন্তব্য চেনে। মাওলানা রুমি যেমন বলতেন, প্রতিটি
বস্তু তার উৎসের দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। কেকটিও যেন জানত, তার গন্তব্য এই ইট-পাথরের শহরে নয়। তার
গন্তব্য এমন এক জায়গায়, যেখানে
প্রকৃতির প্রতিটি ধূলিকণা পরম করুণাময়ের জিকিরে মশগুল।
একদিন ছুটির দিনে আমরা বের হলাম।
আমি, আমার স্ত্রী, আমার মা আর আমার কন্যারা। কংক্রিটের শহর
ছেড়ে আমাদের গন্তব্য সিলেটের রাতারগুল। শীতের উজ্জ্বল রোদ তখন আসমান থেকে ঝরে
পড়ছে। রোদেরও যে নিজস্ব একটা কান্না আছে, এক নীরব
হাহাকার আছে—সেদিন শীতের সেই বিবর্ণ আলোর দিকে না তাকালে তা বিশ্বাস হতো না। গাড়ির
জানালা দিয়ে আসা বাতাসে ছিল বুনো ঘ্রাণ। মেঘের দীর্ঘশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছিল আমাদের
শরীর।
রাতারগুল যাওয়ার পথে গাড়ির ভেতরে বসে আমি হঠাৎ ব্যাগটা খুললাম। ভেতরে হাত দিতেই আঙুলে ঠেকল একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট। বের করে আনলাম। সেই ড্রাই কেক! আমার সহকর্মী যেটি পরম মমতায় আমার জন্য রেখেছিল। আমি অবাক হয়ে তাকালাম।
আমি আমার স্ত্রীর দিকে ফিরে বললাম, "দেখো কাণ্ড! অমুক ভাই এই ড্রাই কেকটা আমাকে খেতে দিয়েছিল। আমার
তো খাইতেই মনে ছিল না কাজের চাপে। এটা বরং বাচ্চাদের দিয়ে দাও।"
আমার স্ত্রী মৃদু হাসল। তার চোখে
অদ্ভুত এক প্রশান্তি। যেন সে কোনো এক অদৃশ্য নির্দেশনার পাঠিকা। সে শান্ত গলায় বলল, "এখন ড্রাই কেক খাওয়ার সময় নেই। চলো, ব্যাগের
ভেতরেই নিয়ে যাই। নৌকায় ঘোরার সময় অন্যান্য নাস্তার সাথে মেয়েদের দিলে তারা খাইতে
পারবে।"
আমি আবারও কেকটা ব্যাগে রেখে
দিলাম। কেকটা যেন আমার স্ত্রীর জবান দিয়ে নিজের চূড়ান্ত গন্তব্যের কথা ঘোষণা করল।
আমি বুঝতে পারলাম না। আমি কেবল এক মাধ্যম। এক বাহক। তাকদিরের হাতের এক অদৃশ্য
পুতুল।
রাতারগুলের পানি তখন শান্ত। এই
পানির প্রতিটি ফোঁটায় যেন নূরের তাজাল্লি ঠিকরে পড়ছে। শীতের রোদ সেই স্থির পানিতে
পড়ে চিকচিক করছে। আমরা একটি নৌকায় উঠলাম। চারপাশের হিজল আর করচ গাছগুলো যেন
সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে জিকির করছে। পাতার মর্মর ধ্বনিতে আমি যেন শুনতে পাচ্ছিলাম এক
অদৃশ্য তাসবিহ। প্রকৃতির এই নীরবতারও এক নিজস্ব শব্দ আছে, যা কেবল রুহ দিয়ে অনুভব করা যায়। পানির
ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মনে হচ্ছিল, কেউ যেন
পরম আদরে প্রকৃতির কপালে চুমু খাচ্ছে।
আমাদের নৌকা বনের গভীরে প্রবেশ
করল। চারদিকে এক অপার্থিব মায়াজাল।
নৌকার ভেতরে তখন ছোটখাটো একটা
উৎসব। আমার মেয়েরা চিপস, চানাচুর, মটর ভাজা খাচ্ছে। তাদের কচি হাতগুলো
আমাদের মুখেও খাবার তুলে দিচ্ছে পরম আনন্দে। আমার মা হাসছেন। এক স্বর্গীয় আবেশ
পুরো নৌকাজুড়ে। আমরা যখন এই আনন্দে মশগুল, ঠিক
তখনই আমার স্ত্রী হঠাৎ বলে উঠল, "মাঝিকে একটা নাস্তা দেওয়া
দরকার।"
কথাটা খুব সাধারণ। কিন্তু আমার
রুহ হঠাৎ কেঁপে উঠল। আমার কলবের ভেতরে যেন এক আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো। আমার
মনে হলো, আসমান থেকে কোনো এক ফেরেশতা যেন ফিসফিস
করে এই কথাটা তার অন্তরে ঢেলে দিয়েছে। আমি ব্যাগের চেইন খুললাম। আমার হাত অন্য
কোনো খাবারের দিকে গেল না। সরাসরি চলে গেল সেই ড্রাই কেকটির কাছে।
বললাম, "এই ড্রাই কেকটা তাকে দিয়ে দাও।"
আমার স্ত্রী প্যাকেটটা এগিয়ে দিল
মাঝির দিকে।
মাঝি। রোদে পোড়া তামাটে চামড়া।
বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ। পরনের জীর্ণ কাপড়ে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট। সে
দ্বিধাগ্রস্ত হাতে প্যাকেটটা নিল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। মাঝির
চোখ দুটো চিকচিক করে উঠল। শীতের রোদের চাইতেও যেন বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠল তার চোখের
মণি।
সেই চোখের ভেতরে আমি কী দেখলাম? আমি দেখলাম এক অপার্থিব তৃপ্তি। এক
অদ্ভুত, স্বর্গীয় আনন্দ। সে মুখে কোনো কথা বলল না, কিন্তু তার ওই নীরব দীর্ঘশ্বাসে যেন আমার
নফসের শুকনো মরুভূমিতে এক মুহূর্তে ফুটে উঠল বিশ্বাসের এক বিশাল গোলাপ। তার ওই
সামান্য প্রাপ্তির আনন্দের কাছে পৃথিবীর সমস্ত রাজত্ব, সমস্ত সম্পদ যেন তুচ্ছ হয়ে গেল। তার
অনুতপ্ত চোখের কোণে কি এক ফোঁটা অশ্রু জমল? কে
জানে! তবে আমার কলবের আয়নায় আমি স্পষ্ট দেখলাম, সেই এক
ফোঁটা অশ্রু যেন নূরানী ঝরনা হয়ে বয়ে যাচ্ছে রাতারগুলের এই শান্ত পানিতে। দিনের
আলোতেও যেন আমি মাঝির মুখে দেখতে পেলাম জোসনার হাসি।
আমি স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম। কাউকে
কিছু দিতে পারার যে এমন এক ঐশী তৃপ্তি আছে, তা আমি
সেদিন নতুন করে বুঝলাম। আমার কলব যেন এক মুহূর্তের জন্য দুনিয়ার সব আকর্ষণ থেকে 'ফানা' হয়ে গেল। আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেল এক
মহাজাগতিক প্রেমের সাগরে।
হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল আহলুল
বাইতের সেই মহান ত্যাগের কথা। হযরত আলী (রা.) এবং ফাতেমা (রা.) নিজেদের ক্ষুধার্ত
রেখে, নিজেদের মুখের গ্রাস তুলে দিয়েছিলেন এতিম, মিসকিন আর বন্দিদের মুখে। তাঁরা বলেছিলেন, "আমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার করাই। আমরা তোমাদের
কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কোনো
ধন্যবাদও না।" (সূরা ইনসান)। আমার এই সামান্য কাজ তো তাঁদের সেই বিশাল, পাহাড়সম ত্যাগের ধূলিকণারও সমতুল্য নয়।
তবু ওই মাঝির তৃপ্ত চোখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো, রাসূলপ্রেমের
(সা.) এক বিন্দু আলো যেন আমার নফসকে পরাস্ত করে আত্মাকে ছুঁয়ে গেছে। ইশকে ইলাহির
এক স্নিগ্ধ পরশ আমাকে শিউরে তুলল।
শীতের উজ্জ্বল রোদের উষ্ণতায়
সিক্ত আমাদের নৌকা ছুটে চলেছে রাতারগুলের বনের ভেতর। চারপাশের পানি যেন তরল কাচের
মতো স্বচ্ছ। আমি নৌকার এক কোণে চুপচাপ বসে আছি। আমার ভেতর তখন এক বিশাল মহাজাগতিক
চিন্তার ঝড়। আমি ভাবতে শুরু করলাম।
কোথায়, কোন অজানা গ্রামের কৃষকের জমিতে একদিন
গমের বীজ বোনা হয়েছিল? সেই
কৃষক হয়তো আসমানের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য হাত তুলে দোয়া করেছিল।
আল্লাহর রহমতের পানি সেই জমিনে পড়েছিল। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছিল সবুজ চারা। রোদের
কান্না আর মেঘের দীর্ঘশ্বাস মেখে সেই গম একদিন পরিপক্ব হলো।
কৃষক সেই গম কাটল। বাজারে বিক্রি
করল। সেই বিক্রীত গম বস্তাবন্দি হয়ে চলে গেল দূর শহরের কোনো এক ময়দার কারখানায়।
মেশিনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তা মিহি ময়দায় পরিণত হলো। এরপর সেই ময়দা বাজারজাত হলো।
চলে গেল কোনো এক বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে। সেখানে কারিগরের হাতে, চুলার আগুনে পুড়ে তৈরি হলো এই ড্রাই কেক।
তারপর? তারপর সেই কেক প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হলো
ডিলারের কাছে। ডিলারের হাত ঘুরে কোনো এক বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে তা পৌঁছাল শহরের
একটি পাড়ার দোকানে। সেই দোকান থেকে আরেক দোকানে। আর ঠিক সেই নির্দিষ্ট দিনে, সেই নির্দিষ্ট সময়ে আমার সহকর্মী সেই
দোকানে গেল। অনেক খাবারের ভিড় থেকে সে ঠিক এই কেকটিই কিনল। আমার জন্য।
আমি সেটা পেলাম। কিন্তু খেতে
পারলাম না। আমার স্মৃতি থেকে তা মুছে দেওয়া হলো। আমার চামড়ার ব্যাগের অন্ধকার
প্রকোষ্ঠে কেকটি চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগল তার আসল মালিকের জন্য।
আমার সাথে সেটি ভ্রমণ করল মাইলের
পর মাইল। কংক্রিটের শহর ছেড়ে, পিচঢালা
পথ পেরিয়ে সেটি এলো এই সিলেটের সবুজে। তারপর নৌকায়। রাতারগুলের গহিন বনে। আর
অবশেষে, শত শত মাইল আর অসংখ্য হাত ঘুরে, সেই গম, সেই
ময়দা, সেই কেক গিয়ে পৌঁছাল এই বয়স্ক, রোদে পোড়া মাঝির হাতে।
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়া তায়ালার কী নিখুঁত, কী
সুন্দর রিজিক বণ্টন নীতি!
একজন জমিনে বীজ বোনে। একজন উৎপাদন
করে। একজন কারখানায় রূপান্তর করে। একজন বাজারে বিক্রি করে। একজন টাকা দিয়ে কেনে।
আর একজন—যার নামে আসমানে এই রিজিক লেখা ছিল—সে তা ভক্ষণ করে। সব যেন এক
সুনির্দিষ্ট, অপরিবর্তনীয়
পদ্ধতি। মাকড়সার জালের মতো চারদিকে ছড়িয়ে আছে আল্লাহর তাকদিরের সুতো। আমরা কেবল
সেই সুতোর এক একটা বিন্দু। আমরা অহংকার করি। আমরা ভাবি আমরা করছি, আমরা দিচ্ছি। কিন্তু মারেফাতের দৃষ্টিতে
দেখলে বোঝা যায়, আমরা কেউ দাতা
নই। দাতা কেবল তিনি—আর-রাজ্জাক। আমরা শুধুই মাধ্যম। আমরা কেবল এক অদৃশ্য হাতের
ইশারায় নড়াচড়া করা বাহক মাত্র।
মাঝি কেকটা খাচ্ছে। আর আমি দেখছি।
মাঝির মুখে তৃপ্তির হাসি। আর আমার হৃদয়ে তখন এক নতুন জন্মের স্পন্দন। চারপাশের এই
নীরবতার ভেতরে আমি যেন এক ঐশী সুর শুনতে পাচ্ছি। হিজল আর করচ গাছগুলো যেন মাথা
দুলিয়ে দুলিয়ে সায় দিচ্ছে আমার এই ভাবনার সাথে।
নৌকা এগিয়ে যাচ্ছে। পেছনে রেখে
যাচ্ছে পানিতে তৈরি হওয়া সাময়িক কিছু ঢেউ, যা একটু
পরেই আবার মিলিয়ে যাচ্ছে শূন্যতায়। ঠিক আমাদের জীবনের মতো। এই পৃথিবীতে আমাদের
অহংকার, আমাদের অর্জন—সবই এই ক্ষণস্থায়ী ঢেউয়ের
মতো।
আমি আকাশের দিকে তাকালাম। নীল
আকাশ। সেখানে কোনো মেঘ নেই। আমার ভেতরেও আর কোনো সংশয় নেই। এক গভীর, দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তি আর একইসাথে নিজের
ক্ষুদ্রত্ব অনুভব করার এক মিষ্টি বিষণ্ণতা আমার আত্মাকে জড়িয়ে ধরল। আমি বুঝতে
পারলাম, পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি ঘাসের ডগা, প্রতিটি খাবারের টুকরো তার গন্তব্য চেনে।
আমরা কেবল অযথাই অস্থির হই। অযথাই নফসের পেছনে ছুটে ক্লান্ত হই।
মাঝির মুখে তখনো সেই নিষ্পাপ তৃপ্তির আভা। আমার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। অন্তরের গহিনে তখন বয়ে যাচ্ছে সেজদার পানির মতো পবিত্র এক প্রশান্তির ধারা। আমি নীরবতার শব্দ শুনলাম। আর আমার রুহ, সমস্ত নফসানিয়াত থেকে মুক্ত হয়ে, পরম প্রভুর দরবারে লুটিয়ে পড়ে ফিসফিস করে বলে উঠল—আলহামদুলিল্লাহ!


আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।