অস্তিত্বের দহনলিপি

মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রিয়
0
অস্তিত্বের দহনলিপি

নোনা নক্ষত্রের পতন,
মৃত্তিকার পিঞ্জরে তৃষ্ণার্ত ক্যালিগ্রাফি;
কতটুকু লোনাজল হলে
রূহ্ ভিজে হয় তসবিহ্‌র দানা?

শূণ্যতার গান গায় আধো-অন্ধকার তোরণ,
সেথা দহনের নাম কি তবে নূর?
কতটুকু মোম গলে গেলে
ললাটে ফোটে সিজদাহর নক্ষত্রপুঞ্জ?

সবরের নীল কাফনে মোড়ানো আর্তনাদ,
বুকের গহীনে এক জ্যান্ত কারবালা;
শব্দহীন হাহাকারের নাম কি তবে ধৈর্য?
নাকি মেরুদণ্ডে জমে থাকা একমুঠো হিম-লজ্জা?

আকাশের ওষ্ঠে আজ মৌনতার সীলমোহর,
চিৎকারগুলো ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে;
নিজেরই ছায়ার কাছে অপরাধী এক বিমূর্ত সত্তা,
যেখানে কান্নার জ্যামিতি কেবলই বৃত্তাকার।

বিদায়ের রেখাচিত্র আঁকা বিচ্ছেদের ওযুখানায়,
শেষ কথাটি যেন এক অদৃশ্য মিরাজ;
অবুঝ কৌম কেন খোঁজে সান্ত্বনার নহবতী?
শূন্য সিংহাসনে কেবল পড়ে থাকে নিয়তির পদচিহ্ন।

হে আরশ-অধিপতি,
মজলুমের দীর্ঘশ্বাসে যখন কেঁপে ওঠে কালপুরুষ;
তখন মার্জনার মেঘ কি তবে বারুদ হয়ে ঝরবে?
বিষাদ-অনলে পুড়ছে আজ মাটির তিলক।

স্বপ্নরা আজ লুণ্ঠিত ধূলিকণার মিছিলে,
পরাজিত তৃষ্ণা নিয়ে দাঁড়িয়ে একাকী মুসাফির;
আর কতদূর গেলে এই নির্মমতার মহাকাব্য
লীন হবে এক অনন্ত সেজদায়?
”এই লেখাটির মেধাস্বত্ত সম্পুর্ণ লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত, লেখকের অনুমতি ছাড়া এই লেখার অংশ বিশেষ বা সম্পূর্ণাংশ অন্য কোন মিডিয়াতে প্রকাশ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গন্য হবে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default