পড়ে আছি নগরের জঠরে।
আমার পাঁজরে ধুলোর
তসবিহ পাঠ করে মহাকাল।
আমি সেই প্রান্তর, যেখানে
ছায়ারাত নামে কোনো
এক অলৌকিক ইশারায়।
এখানে আমার নিঃশ্বাসে
মিশে থাকে দহন আর সমর্পণের ঘ্রাণ।
অস্তিত্বের মানচিত্র
অন্ধকারের হুকুমতে বিদীর্ণ এই জংশন
উচ্ছিষ্টের মিছিলে আমি এক বিবাগী নহর,
নাপাক ঘাম আর পঙ্কিলতার দরিয়া বয়ে যায়
আমার বক্ষপিঞ্জর চিরে,
তবু আমি সিজদাবনত স্থির এক ধ্রুবপদ।
দহনের তিলক
মত্ত পথিক আর ঘাতকের পদছাপ—
সবই এখানে একাকার, সবই লীন।
কারো হাতে তসবিহ, কারো আঙুলে নীল বিষ
আমি তো কেবল আগুনের ওপর ফুটে থাকা
এক টুকরো দহনজ্বালা, পুড়ছি যেন ধূপের মতো।
এ পোড়াই তো শেষ পর্যন্ত সুবাস হয়ে ওড়ে।
শূন্যতার সুলতানাত
বিত্তের প্রাসাদ আর রিক্তের হাহাকার
একই মাটির ওপর দিয়ে হেঁটে যায় অলক্ষ্যে,
কেউ চেনে না এই জীর্ণ হাড়ের জিকির।
আমি একাকী, নিরব এক সাক্ষীগোপাল
খোদার আরশের নিচে পড়ে থাকা ধূলিকণা—
যেখানে সব কোলাহল মিশে যায় এক নিস্তব্ধ নূরে।
শেষহীন অপেক্ষা
আলীশান দালানের ছায়া কামড়ে ধরে রাত
গণিকার দীর্ঘশ্বাস আর ঘরহারার কান্না,
সব আমি শুষে নিই নিজের গভীরে।
আমি সেই পথ, যা ফুরিয়েও ফুরোয় না
শুধু জ্বলে উঠি নক্ষত্রের চোখের মতো—
অন্তিম উত্তরণের অপেক্ষায় ম্রিয়মাণ এক শূন্যতা।
অন্তিম মহাজাগতিক পথ
আমি সেই পথ, যা নিজেকেই হারিয়েছে
তোমার নূরের এক চিলতে ইশারায়।
এখন আর কোনো পদছাপের ভার নেই,
না কোনো দহনের পোড়া গন্ধ।
আমি এখন একটি মহাশূন্য, এক অনন্ত আসমান—
যেখানে সব পথ এসে মিলেছে এক বিন্দুতে।
আমার বুকের ধুলো আজ সেজদা করে না,
বরং নিজেই হয়ে গেছে এক অদৃশ্য আরশ।
হে পরম নীরবতা, আমাকে তোমার মাঝে লীন করো—
যেন আমি থাকি, অথচ আমি না থাকি।
”এই লেখাটির মেধাস্বত্ত সম্পুর্ণ লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত, লেখকের অনুমতি ছাড়া এই লেখার অংশ বিশেষ বা সম্পূর্ণাংশ অন্য কোন মিডিয়াতে প্রকাশ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গন্য হবে।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।